চট্টগ্রাম–১৩ আসনে সরওয়ার জামাল নিজামের মনোনয়ন বৈধ, সম্পদ বিবরণীতে স্ত্রীর সম্পদ বেশি

চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম এবারও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। যাচাই-বাছাই শেষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয় তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে।

তবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে তাঁর পারিবারিক সম্পদের একটি উল্লেখযোগ্য চিত্র। ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান সরওয়ার জামাল নিজাম দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁর ঘোষিত সম্পদের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি সম্পদ রয়েছে তাঁর স্ত্রী নাজনীন নিজামের নামে।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সরওয়ার জামাল নিজাম ‘নিজাম শেয়ারস এন্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড’ নামে একটি স্টক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। একই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাঁর স্ত্রী নাজনীন নিজাম। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে সরওয়ার জামাল নিজামের মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৪১ লাখ ৫ হাজার ৩৭৬ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ৩১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৩ টাকা এবং আয়কর দিয়েছেন ৪ লাখ ১৭ হাজার ৯০৩ টাকা।

অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৯ কোটি ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৭০৫ টাকা। বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৪৮৮ টাকা এবং আয়কর দিয়েছেন ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮২১ টাকা।

নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমার ক্ষেত্রেও ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। সরওয়ার জামাল নিজামের হাতে নগদ রয়েছে ৩৭ লাখ ৪৩ হাজার ৫৯২ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ২৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮৮৪ টাকা। তাঁর স্ত্রীর কাছে নগদ রয়েছে মাত্র ১৮ হাজার ৪৯২ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৬৩ টাকা।

শেয়ার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বামীর নামে রয়েছে ২০ লাখ ৯৩ হাজার টাকার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার এবং ৪৮ লাখ টাকার প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার। তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫১ লাখ ৫৬ হাজার টাকার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির এবং ২৪ লাখ টাকার প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার।

হলফনামা অনুযায়ী, স্বামী–স্ত্রীর দু’জনের মোট স্বর্ণালংকারের পরিমাণ ১৫ ভরি। এর মধ্যে সরওয়ার জামাল নিজামের রয়েছে ৫ ভরি এবং তাঁর স্ত্রীর রয়েছে ১০ ভরি। রাজধানীর গুলশান ও চট্টগ্রামের খুলশীতে তাঁদের নামে আবাসিক বাড়িও রয়েছে। বর্তমানে তাঁদের কারও নামে কোনো ব্যাংক ঋণ নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনি অবস্থান সম্পর্কে হলফনামায় বলা হয়েছে, বর্তমানে সরওয়ার জামাল নিজামের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বিচারাধীন নেই। খুলশী থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলা থেকে তিনি ২০২৫ সালে খালাস পেয়েছেন, যদিও মামলাটি দায়ের হয়েছিল ২০২৮ সালে।

এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে সরওয়ার জামাল নিজাম হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো তিনি বাস্তবায়ন করেছিলেন।

রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে সরওয়ার জামাল নিজামের সঙ্গে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম শাহজাহান, জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের মো. ইমরান, এনডিএমের মো. এমরান এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মুহাম্মদ রেজাউল মোস্তফা।

এদিকে ঋণখেলাপির অভিযোগে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বিএনপি নেতা মো. আলী আব্বাসের প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়েছে।

আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে সরওয়ার জামাল নিজাম ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান বাবুকে এবং ২০০১ সালে আতাউর রহমান খান কায়সারকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সম্পদের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে এবারের নির্বাচনেও এই আসনটি নজর কাড়ছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *