জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তবে বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পঙ্গু হাসপাতালে জুলাই অভ্যুত্থানে আহত কেউ না থাকায় নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এই ব্যাখ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী যোদ্ধা ও নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন—জুলাই আহতরা কোথায় আছেন, সে বিষয়ে বিএনপি কি আদৌ অবগত নয়?
বাগছাস নেতা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক মাহফুজুর রহমান এ বিষয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আহত ও শহীদরাই তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। অথচ তাঁর দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কেউ জানে না জুলাইয়ে আহতরা কোথায় চিকিৎসাধীন। জুলাইয়ের প্রশ্নে উনাদের এই উদাসীনতা কেন?”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমায়ুন কবির নামে একজন লেখেন, “এখানে দুইটি বিষয় স্পষ্ট। এক—যাদের ত্যাগের কারণে তিনি দেশে ফিরতে পেরেছেন, তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে তিনি অবগত নন। দুই—দেশে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যা তাঁর আশপাশের সিদ্ধান্তদাতাদের অদূরদর্শিতাই প্রকাশ করে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও স্বীকৃতি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে। পঙ্গু হাসপাতালে আহত না থাকার দাবি সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, আহতদের অবস্থান ও চিকিৎসা ব্যবস্থার বিষয়ে স্পষ্ট ও দায়িত্বশীল অবস্থান না থাকলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।