NEIR চালু হলেও ৯০ দিন অবৈধ বা ক্লোন হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে না: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

জাতীয় ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রেশন (NEIR) সিস্টেম চালুর পরেও আগামী ৯০ দিন কারো অবৈধ বা ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

পোস্টে তিনি জানান, মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় তিন বিলিয়নের বেশি ডেটা সেট সংগ্রহ করা হয়েছে। অপারেটররা হিস্টোরিক ডেটাসহ সব তথ্য সিস্টেমে যুক্ত করেছে। তবে মাইগ্রেশনের তারিখ বর্তমান হিসেবে দেখানো হওয়ায় অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) বিপরীতে সচল সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে।

তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে কাজ করছে। ধীরে ধীরে হিস্টোরিক ডেটা ব্যাকগ্রাউন্ডে আর্কাইভ করে কেবল বর্তমানে সচল হ্যান্ডসেটের সংখ্যাই দেখানো হবে। এজন্য কিছুটা সময় লাগবে।

NEIR সংক্রান্ত বিভিন্ন ত্রুটি ও অসংগতি নিয়ে অনেকে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন উল্লেখ করে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ভুল ধরিয়ে দেওয়া এবং সমস্যাগুলো সামনে আনার জন্য সবাইকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে। তিনি জানান, শুরুর দিকে টেকনিক্যাল প্লাটফর্মে এ ধরনের কিছু জটিল ইস্যু দেখা দেওয়া স্বাভাবিক এবং সেগুলো সমাধান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আগে এই সিস্টেমে ভিএপিটি (Vulnerability Assessment and Penetration Testing) করা হলেও নতুন করে আরেক দফা ভিএপিটি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, এটি কোনো নতুন সিস্টেম নয়। ২০২১ সালে প্রথমবার এটি চালুর চেষ্টা হয়েছিল। কিছু ফাংশনাল ফিচার বাড়িয়ে এখন এটি সচল করা হয়েছে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, বাংলাদেশে এক সময় একজন ব্যক্তির একটি এনআইডির বিপরীতে প্রথমে ২০টি এবং পরে ১৫টি পর্যন্ত সিম ব্যবহারের অনুমতি ছিল, যা বর্তমানে ১০টিতে নামিয়ে আনা হচ্ছে। এ কারণে এনইআইআর ম্যাপিংয়ে এনআইডির বিপরীতে হিস্টোরিক ডেটায় বেশি সংখ্যক হ্যান্ডসেট দেখানো স্বাভাবিক।

তিনি জানান, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা তৈরি হবে। একজন ব্যক্তির এনআইডির বিপরীতে কত সিম ব্যবহার হয়েছে এবং প্রতিটি সিমের বিপরীতে কত ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে, সে তথ্য জানা যাবে। পাশাপাশি নিজের এনআইডির বিপরীতে নিবন্ধিত সিম বা ডিভাইস ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত কোনো আর্থিক অপরাধ হচ্ছে কিনা, তা জানাও একজন নাগরিকের অধিকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডাটাবেজ নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, নিরাপদ ডিজিটাল টোকেন জেডব্লিউটি (JWT) কার্যকর রয়েছে, রেট লিমিট চালু করা হয়েছে এবং এখন থেকে ডাটা পেতে এনআইডি জানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এনআইডির বিপরীতে আইএমইআই রেসপন্স দেওয়া হচ্ছে। ১৩, ১৭ ও ১০ ডিজিটের এনআইডির জন্য তিন ধরনের ম্যাপিং রয়েছে। একটি এপিআইতে এনআইডি দেওয়ার পর আইএমইআই রেসপন্স পাওয়ার বিষয়টি নজরে এসেছে। এনআইডি নম্বর জানা থাকলে এই ধরনের ডাটা আসতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, অধিকতর নিরাপত্তার জন্য এখানে আরও একটি সিকিউরিটি লেয়ার যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে তিনি সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য আগাম ধন্যবাদ জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *