ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাসিম উদ্দীনকে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। জাসিম উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন এবং বিএনপিতে যোগদানের আগে তিনি হাসিনার সময়ের নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সুত্রগুলো বলছে, জাসিম উদ্দীনের নাম জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অতীতে অর্থঋণসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব তথ্য স্থানীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। সূত্রগুলোর দাবি, এই মনোনয়ন ঘোষণার ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, এই মনোনয়ন গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এ ধরনের মনোনয়ন “কৌশলগতভাবে নির্বাচনী আসন অর্জনের” প্রচেষ্টা হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে দলীয় নীতি ও সমর্থকশ্রেণির সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে পারে। তাঁরা উল্লেখ করেন, স্থানীয় নেতাকর্মীরা শুধুমাত্র মনোনয়ন পত্রের প্রার্থীর অতীত বা রাজনৈতিক সম্পর্ককেই গুরুত্ব দিয়ে আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ভাবতে পারেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রার্থীর মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় “কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সুপারিশ” অনুসরণ করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের মনোনয়ন স্থানীয় স্তরে সমর্থন ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে দলীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়নের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে বিতর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এই ধরনের মনোনয়ন রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও জনমতকে অগ্রাহ্য করে নেওয়া হলে স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।