চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলায় বিস্তৃত শিল্পাঞ্চল ঘিরে স্থানীয় শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্টে চাকরির দাবিতে সরব হচ্ছেন তরুণরা; কেউ কেউ সরাসরি আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিচ্ছেন।
সম্প্রতি জাহিদুল ইসলাম শামীম নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুক পোস্টে কেইপিজেড, কাফকো, সিইউএফএল, ডিইপি-১ ও ২ এবং চায়না ইকোনমিক জোনসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষিতদের জন্য সর্বোচ্চ কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি এটিকে স্থানীয়দের ন্যায্য অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, স্বেচ্ছায় দাবি পূরণ না হলে প্রয়োজনে আন্দোলনে নামার বিকল্প থাকবে না।
অন্যদিকে মনজুর মোর্শেদ নামে এক তরুণ তার পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কেইপিজেড তার বাড়ির পাশেই হলেও আনোয়ারা-কর্ণফুলীর মানুষ সেখানে খুবই সীমিত সংখ্যায় চাকরি পাচ্ছেন। তার অভিযোগ, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বহিরাগত সিন্ডিকেটের কারণে স্থানীয় তরুণ-তরুণীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি নিয়োগে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে তরুণ রাজনীতিবিদ ইমরান হোসেন তারা বলেন, কর্ণফুলী-আনোয়ারা এলাকায় শতশত শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও স্থানীয় হাজারো শিক্ষিত তরুণ এখনো বেকারত্বে ভুগছেন, যা সত্যিই উদ্বেগজনক। তিনি উল্লেখ করেন, এ অঞ্চলের ভূমি, পানি, আলো-বাতাস ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল মুনাফা অর্জন করলেও স্থানীয়দের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয় শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
এদিকে এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আরও সচেতনতা ও ক্ষোভ তৈরি করছে। সাধারণ মানুষের দাবি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্ণফুলী ও আনোয়ারার বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তরুণদের একাংশ বলছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।