খামেনির রেড এলার্ট, প্রস্তুত ইরানের সব বাহিনী।

তেহরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সতর্কতায় নিয়ে গেছেন। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের অপারেশন রাইজিং লায়নের সময়ের চেয়েও এবার নিরাপত্তা সতর্কতা আরও কঠোর করা হয়েছে। সম্ভাব্য বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় সক্রিয় করা হয়েছে ভূগর্ভস্থ তথাকথিত ‘মিসাইল সিটি’গুলো।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বি-৫২ বোমারু বিমান আকাশে উড়লেও খামেনি তেহরান ছাড়বেন না। অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে, সেনাবাহিনী বা পুলিশের তুলনায় তিনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ওপর বেশি ভরসা করছেন। কারণ, তার ধারণা আইআরজিসির ভেতরে বিদ্রোহের ঝুঁকি প্রায় নেই। তবে অতীতে অন্যান্য বাহিনীতে ভাঙন দেখা গেছে। কার্যত নিজের রাজনৈতিক ভাগ্য তিনি আইআরজিসির হাতেই সঁপে দিয়েছেন।দেশজুড়ে অন্তত ২,২৭৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৬৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ৪৮ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।একই সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কড়া বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। তার ভাষায়, ইরান ‘বড় বিপদে’ রয়েছে এবং পরিস্থিতি এমন দিকে যাচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কেউ কল্পনা করেনি।

এর মধ্যেই নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ রেজা পাহলভি দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট ও শহর দখলের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বিক্ষোভকারীদের সাহস ও দৃঢ়তার প্রশংসা করে বলেন, জনগণের উপস্থিতি প্রমাণ করে দিয়েছে যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্ব ভয়ে কাঁপছে। তিনি বিশেষ করে পরিবহন, তেল, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের জাতীয় ধর্মঘটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *