চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় আবু খান নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের পরদিন জামিনে মুক্তি পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) রাতে উপজেলার হাইদগাঁও এলাকা থেকে পটিয়া থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
পরদিন সকালে তাকে ৫১ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হলে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

গ্রেপ্তার হওয়া আবু খান হাইদগাঁও ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। তার দ্রুত মুক্তির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠন।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ‘লিগ্যাল সেল’-এর সাবেক সদস্য কাশেম আল নাহিয়ান বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সহিংসতা ও রাজনৈতিক অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তাদের এভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দ্রুত মুক্তি দেওয়া পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবু খান আওয়ামী লীগের সাবেক হুইপ সামশুল হক চৌধুরী ও তার ভাই নবাবের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি হাটহাজারীতে পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেপ্তার হলে তার মুক্তির দাবিতে পটিয়ায় যে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, ওই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন আবু খান। সেই সময়কার বিভিন্ন ছবি এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে পটিয়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচির নেতৃত্বদানকারী আবু সালেহ শাহরুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও আবু খানের পরিচিতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে গেলেও আবু খান দীর্ঘদিন ধরে হাইদগাঁও এলাকায় প্রকাশ্যে সক্রিয় রয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, “আবু খানকে ৫১ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।